আবু সায়েম মোহাম্মদ সা’-আদাত উল করীম:
আইন প্রণয়ন করে দেশে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গণমাধ্যম, বিলবোর্ডসহ বড় বড় প্রচারমাধ্যমগুলোতে বিজ্ঞাপন বন্ধ হলেও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে ভিন্ন কৌশলে বিজ্ঞাপন, ই-সিগারেটের আকর্ষণীয় অফারের মাধ্যম প্রচারণা ও পৃষ্ঠপোষকতা চালিয়ে যাচ্ছে দেশী, বিদেশী তামাক কোম্পানিগুলো।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বিপনী বিতান ও জনসমাগমস্থলের আশে-পাশে ছোট ছোট বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে সিগারেটের খালি প্যাকেট, ডামি প্যাকেট সাজানো, ব্রান্ড কালার, সোকেস/ক্যাশ বক্স, ষ্টিকার, পোস্টার, ফ্লাইয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে প্রচারণার কাজে। কোম্পানির রং-লোগোসহ টি-শার্ট, ক্যাপসহ বিক্রয়কর্মী ও ভ্যান ব্যবহার করে বিপণন কার্যক্রমও চলছে আগ্রাসীরুপে। ভোক্তাদের (বিশেষত: তরুণদের) তামাকজাত দ্রব্য সেবনে উৎসাহিত এবং বিক্রেতাদেরকে তামাকজাত পণ্য বিক্রয়ে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রণোদনা, উপহার সামগ্রী, ফ্রি সিগারেটও প্রদান করা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘চাকুরি মেলা’ ‘ব্যাটেল অব মাইন্ড’ আয়োজন এবং ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কৌশলে চলছে তামাকের ব্রান্ড প্রমোশনের কাজ। ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহান (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ এর ধারা-৫ অনুসারে তামাক কোম্পানির এসকল কর্মকান্ড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বিশ্বের তামাক নিয়ন্ত্রণে কড়াকড়ি আরোপ করছে বিভিন্ন দেশ। নিউজিল্যান্ড সরকার ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন প্রজন্মের কাছে সিগারেট বিক্রি নিষিদ্ধকরণসহ কিছু পদক্ষেপ বাস্তবায়নের ঘোষণা প্রদান করেছে। ডেনমার্ক ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে তামাকমুক্ত করতে ২০১০ সালে বা এর পরে জন্মেছে এমন নাগরিকের কাছে সিগারেট এবং অন্য নিকোটিনযুক্ত পণ্য বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার কথা ভাবছে। অথচ বাংলাদেশ হাঁটছে ভিন্ন পথে। তামাক কোম্পানিগুলো আমাদের শিশু ও তরুণ-যুবাদেরকে ব্যবহার করছে তাদের স্বার্থে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আগামী ২০৪০ সালের মধ্যে “তামাকমুক্ত বাংলাদেশ” গড়ার ঘোষণা প্রদান করেছেন। তার এ ঘোষণা বাস্তবায়নে বিদ্যমান আইন বাস্তবায়নের বিকল্প নেই বলে মনে করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী। তিনি বলেন, “তামাকের বিজ্ঞাপন আইনত: সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘণ এবং অনৈতিক কৌশলে তামাক কোম্পানিগুলো আমাদের তরুণদেরকে মাদকের নেশার জগতে ঠেলে দিচ্ছে। গবেষণায় প্রমাণিত যে, মাদকাসক্তদের মধ্যে ৯৮% ধূমপায়ী এবং ধূমপান দিয়েই তারা নেশা শুরু করে। আগামী দিনে সুস্থ জাতি গড়ে তুলতে অনতিবিলম্বে তামাক কোম্পানিগুলোর লাগাম টেনে ধরতে হবে। সিএসআর কর্মকান্ড বন্ধ করতে হবে। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন অনুসারে তামাক কোম্পানিগুলোকে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি আইন লঙ্ঘণকারী কর্মকর্তাদেরকে জেল ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। যাতে করে আইনের প্রতি সকলে শ্রদ্ধাশীল হয়।”
তাছাড়া আইনে যুক্ত না থাকার সুযোগ নিয়ে তামাক কোম্পানিগুলো ‘ই-সিগারেট’ এর বাজার প্রসারিত করছে। তরুণদের টার্গেট করে ‘ই-সিগারেট’ কম ক্ষতিকর বলেও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রকৃতপক্ষে, ‘ই-সিগারেট’ জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। যা গবেষণায় ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের মতো দেশে ‘ই-সিগারেট’ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের দেশেও এ বিষয়ে আশু পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন করে অধিকতর শক্তিশালীকরণ এবং কার্যকর বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, টাস্কফোর্স কমিটি ও কতৃত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সক্রিয়তা অত্যন্ত জরুরী বলে মনে করেন তিনি।
Leave a Reply